উদাসিনী রাজকন্যা।

পুর্-শশী।

স্পিনে বটিত পসোপাশাাশি

মিলনান্ত নবন্যাস।

পার্টস শিক

“কুন্থমমিব পিনদ্ধং পাণড পত্রোদরেণ )?

সারত্ধত যন্ত্র কলিকাতা,--পাতুরিয়াঘ।ট। ব্রজছুলালের ইরা নং। পুর্ণ-শশী' মাসিক পত্রিকা হইতে পুনয়াদ্রত।

সন ১৯২৮ পাল।

পি % রি রঙ গত, হ্হিন

পূর্ণ শশী।

প্রথম পরিচ্ছেদ।

বাগ্দ।ন। “«“অর্ধোহি কন্যা পরকীয় এব তাঁমদ্য সংপ্রেষ্য পরি গ্রহীতু€ | জাতোহস্মি সদ্যোবিষদান্তরাস্মা চিরস্ত নিক্ষেপমিব।পয়িত্বা ॥% কালিদাস। বাঙ্গালা ১০৮৭ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের শেঁষে এক জন যুবা হিন্দু" স্বানী একাকী বিষগ্নবদনে অশ্বারোহণে দাক্ষিণাত্যির আরণা পে গমন করিতেছেন ভার পরিচ্ছদ বন্্গুলি স্থানে স্থানে বিশ্লিষট, স্তরে স্তরে আ্রর। অশ্বটীও অতিশয় পরিশ্রান্ত, সিক্ত-কলেবর | সময় নিশা, কিন্তু অধিক রাত ভয় নাই, চারি ছয় দণ্ড মাত্র তি প্রকৃতি প্রশীস্ত,--পশুপক্ষী নিঃশব্,-বক্ষপত্র সর্ণীলনের শকা- মাত্রও *্নাই,২তলভূমি বারিসিক্ত;স্থীনে স্থানে ক্দমশ্স্থানে স্থানে পু্জীকৃত তগ্রতরু পথ অবরোধ করিয়া আছে, কোন কোন স্কানে মৃত পশুপন্ষী ভূনুঠিত। অস্বীরোহী অন্ধকারে পথ দেখিতে পাইতেছেন না,এক একবার ভগ্ন তরুক্ষদ্ধে 'অশ্বসহ আহত হুইয়! পশ্চাদগ।মী হুইঝেছেন, গাত্রাবরণ ছিন্ন ভিন্ন হইতেছে, কপোলে, লালাছুট রক্ত পড়িতেছে ;--ভগ্প বক্ষশাখে পাদস্থলন হইয়া এক"

পূর্ণশশী |

একবার তরঙ্গের গতিরোধ হইভেছে,_-পথিকের তৎকালী,, প্রুশের বর্ণনা হয় না। সুর্য্যান্তের পুর্বে ঝড় হইয়া গিয়াছে, সেই ঝটিকাবর্ত- সহ মুষলধারে ব্টিও হইয়াছে, ঝড়বষ্টি বিগমে পৃথিবী শীভল,-- নভোমগুল স্তন্ভিত,--ভীম তবক্ময় অতলস্পর্শ জলনিধিও প্রর্শন্ত ; --"তরল মৃদুল পবন অতিশয় হিমস্পর্শ |

একটু পুর্ব পবনদেব করালবেশে যে পথ অতিক্রম করিয়া গিয়া- ছেন, সে পথ এখন নরলোকের পক্ষে নিতীস্ত ছুর্ম ; স্ুভরাঁং কালোচিত কর্তব্যান্থরোধে সবাঁহন পরিক্রি্ট আরোহী পার্বতী বক্র পথ ধরিয়! ধীরে ধীরে গমন করিতে লাগিলেন | উর্ধ দৃষ্টে চাহিয়া দেখিজেন, আকাশ নির্শল ;--ধুসর মেঘ ছিন্গভিন্ন হইয়া ইতস্তত সঞ্টলিত হইতেছিল,--মে ভাব আর নাই, নীলবর্ণ নির্মল 1-- নিখিল আকাশে নক্ষত্রমালা উদত হইয়াছে, নিবিড় অন্ধকারে আকাশ পরিস্কার থাকিলে অপেক্ষ!কৃত অণ্প অপ্প আলো হয় | অশ্ববাঁহন সেই স্তিমিত আলাকের সাহাঁষো পীরে ধীরে যাইতে" ছেন),কেো!থায় যাইতেছেন, তাঁভা জানেন না চারি দিকে অরণ্য নিবিড় অরণ্য ;--তাহাঁতে মধ্যে মধো ইছত বুহহ বক্ষ পতিত," দিগ্নির্ণয়ই হইয়1 উঠিতেছে না। কাষ্টচ্ছেদক ব্যাধেরা গতিবিধি করাতে মাঝে মাঝে যে অগ্রশস্ত পথ পড়িযাছেঃ তীহাও সে রাত্রে কতক কতক সমাচ্ছন্ন গাথভ্রান্ত পান্থ বহু ক্রেশে কত বেড় কত প্যাচ অতিক্রম করিলেন,_-কাননের শীষ প্রায় শেষ হইল, সাহসে ভর করিয়! অগ্রব্ঠী হইতে লাগিলেন, কিন্ত লোকালয় দেখিতে পাইলেন না| হভাশ হইলেন ।-মভা বিপদেও আঁশা পথ দেখা ইয়! দেয়,মহা! সংশয়।কুল সঙ্কটেও আশা আশ্বাস দেয়, যুবা, গথিক সেই আশার আশ্বাসে অগ্রসর হইতে ক্ষান্ত হইলেন না,

পূর্ণশশী

চন্দ্র উু্রুহ্ইল ।-_ চন্দ্রের সঙ্গে সঙ্গেই অস্বীরোহীর সাপের উদয় হুইল ;-১মনে মনে যত আতঙ্ক আর আশঙ্কা উপস্থিত চারা তত আর নাই রাত্রি এক প্রহর অতীত

কিয়দ,র গ্রমন করিলে সম্মূখে *একটী পর্বত দৃষ্টি হুইল, যুব! সেই শৈলাভিমুখে অশ্বচালন করিয়া গুহাত্যন্তরে একটী আলোক দেখিতে পাইলেন লোকাশ্রগ স্থির করিয়া আনন্দ জন্মিল। অশ্ব হইতে অবতরণ করিয়] নিকটবর্তী হইলেন ।- গুহাশ্রমের ছারদের্শ উপস্থিত হইয়1 কাতরস্থবরে কহিলেন»

অতিথি 1--মহা সঙ্কট 1--জীবন বিপন্গ ।--এই রাতের জন্য আশ্রয় ভিক্ষা | *

« কল্যাণং কল্যাণং ! ভয় নাই, ভয় নাই! আতাঁথর নিমিত্ত আমার এই ক্ষুত্র আশ্রম সর্ধদাই অবার্িত। অতিথির আগ্মনে আমি কৃতার্থ হইলাম |?

সপ্রেমস্বরে এই থা কছিতে কহিতে একজন তপস্বী গুহ দ্বারে দর্শন দিলেন উহার বর্ণ মধা[হৃকালীন চল্পক পুষ্পসদূশ, মস্তকে জটা, লম্বিত আবক্ষ শ্বেত শ্াঞ্ত,-চক্ষু প্রশস্ত, রভ্তবর্ণ উজ্জ্বল,-- জযুগল ধবল, কর্ণবিবর ধবল লোমে 'আবত, স্ুল বক্ষে ধবল লোমাবলী,.-পরিধান ধবল বসন, ক্ষন্ধে ধবল যজ্জেপবীতসহ ধবল উত্তরীয় | দর্শন মাত্রেই সমস্ত শুভর শে(ভায় মন আ.কুষ্ট হয়, তক্তিরনের উদয় হয় | আকৃতি-দর্পণে যেন মানসিক শুভ্রতার প্রতি- বিশ্ব ঝকং ঝাক করিতেছে বয়ঃক্রম অন্ুমাঁন ষঙ্টি বৎসর |

যুবা প্রণাম করিলেন, তাপস আশীব্।দ করিলেন।

£ গুহা মধ্যে আইস ।--জাভিথেয়ের এই আহ্বান বাক অততধি পুলকিত হৃদয়ে অশ্থটী নিকটস্থ এক দ্রুমে বন্ধন করিলেন,

& পূর্ণশশ্ী |

ঘোটক সই তরুমুলজাত তৃণাঙ্কর তক্ষণ করিতে লাল, তিনি গুহাভ্যন্তরে গ্রৰিষ্ট হইলে, যোশগীবর একখানি আসন 'দেখাইয়! দিলেন, পথিক উপবিষ্ট হইয়। শরীস্ত দুর করিতে লাগিলেন এই সমর তাহার মনে ভাবান্তর উদয় ফুইল।_কেন হইল, তিনিই বলিতে পারেন | তপস্বী তাহাকে কিছু অন্যমনস্ক দর্শন করিলেন? কিন্ত অতিথি সত্কারের অগ্রে কোন বিষয়ের কারণ জিজ্ঞাস্থ হওয়। আতিথ্য ধর্শের বিরোধী, এই নিমিত্ত কিছু জিজ্ঞাসা করিলেন না আশ্রমলন্ধ, তৎ্কালস্মলভ যথাভোজ্য সংগ্রহ করিয়] উপযোগ করিতে দিলেন, পথিক আহার করিয়। সুস্থ হইলেন | থৃহ্ে যে প্রদীপ জ্বলিতেছিল, তাহ প্রতি নেভ্রপাত কাঁরয়া একটী দীর্ঘনিশ্বাস ত্য।গ করিলেন।

অতিথির সেবা হইয়াছে, ব্রহ্মচারী তৃগ্িলভ করয়াছেন, মনোভাব প্রকাশ করিবার এই উপযুক্ত অবসর 1--অবসর বুঝিয়। তাপমবর অতিথিরে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, «বৎস 1১ সম্বোধন সময়েই সম্বোধিতের বিমর্ষ বদনে উাহ।র এখস্ত, সুবিস্তার জ্যোৌতিশ্শর নয়ন নিক্ষিপ্ত হইল; তিনি শিহরিলেন | সবিম্ময়ে ক্ষণকাল নিস্তব্ধ থাকিয়া সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করিলেন, “যুবরাজ ! তুমি অবস্থায় বিজন: প্রদেশে একাকী ভমণ করিতেছ কেন £”

রাজপুভ্র শিহরিয়া উঠিলেন )-সম্বেধন শ্রবণ করিয়। তপস্বীর মুখপাঁনে বিস্ষীরিত কৌতুহলী নয়ন প্রক্ষেপ করিয়া সভয়ে জিজ্ঞ।স1 করিলেন,

মহাভাগ ! আপনি কে 2?

« আমি যে হই, পরে জানিবে এখন যাছ। জিচ্ঞাসা করিলাম, তাহার উত্তর কর | তুমি এই রাত্রে এবেশে প্রদেশে একাকী কেন ? ত্রস্তভাবে ত্রস্তস্বরে তপস্বীর এই সংক্ষিগু উত্তর

পূর্ণশশী

এষ জরা রাজ্যের গিরিগুহাবাসী ঈন্াসী আমারে কির্ূপে চিনিলেন” কিরূপে পরিচয় জ্ঞাত হইয়া আমারে যুবরাজ শব্দে সম্বোধন করিলেন, আমি রাজপুত্র, কিরূগে ইন জানিলেন, কিছুই বুঝা যাইতেছে না] বোধ হয়ঃ ইনি দ্ত্রিকালজ্ঞ সিদ্ধপুরুষ হইবেন। যাহা হউক, যখন আনি অতিথি, আর ইনিও অকপট অতিথিনিষ্ঠ, তখন কখনই আমার নির্বন্ধে সত্য তত্ব অপ্রকাশ রাখিবেন না। পরিচয় দিব না, কিন্তু সত্যের অস্থরোধে ঘটন।গুলি বিজ্ঞ/পন করি এই রূপ সংকণ্প স্স্থির করিয়া কহিলেন

মুনিসত্তম ! আমি আপনারে চিনিতে পারিলাম না, ক্ষম! করিবেন। আগনি যোগবলে আমর পরিচয় প্রাপ্ত হইয়াছেন, আপনারে নমস্কার করি সেতুবন্ধ রামেশ্বর মহা তীর্থ, লোকমুখে আর শাক্রপাঠে এইটী পরিজ্ঞাত হইয়া বসম্তকাল সম।গমের গুর্বেই আমি অন্থচরবর্গ সমভিন্যাঙারে মেই তীর্থ দশনাশয়ে যাত্রা করি | আপনার আশ্রমের অদুরে উপস্থিত হইয়। অদ্য মহা বিপদে পতিত হই। অকস্মাৎ ঝবডরষ্ি উপস্থিত হয় আমার লেখকজন সেই দুর্যোগে কে কোথায় গেল, কিছুই জানি নাঃ আমি একাকী আর আমার অশ্ব বন্ড কষ্ট ভোগ টির [পনর শরণবপন্ন হইয়াছ, আর আপনার অমায়িক মচাপূরুষ ভাব দর্শন করিয়া পরম আপ্যা- গ্িত হইয়াছ,-আ।পনার প্রীপাদপদ্ম জন্মে আর বিস্মৃত হুইব না। এখন অলুগ্রঙ্ বরিয়া বলুন, আপনি কে ? কোন, মহাযোমী

₹স্ আপন।র উদ্ভবে সনলম্ক হইয়াছে

তপস্বী হাঁসায়ুখে কহিলেন, রাজকুমার ! আমি যৌশীও নই, দৈবজ্ঞও নই, তোমার পিতা মহারাজ আদিত্য সিংহের চিরচিহ্কিত কিন্করু |:

পূর্ণশশী

রাজপুত্র বিস্ময়াপন্গ হইলেন স্থির দৃষ্টিতে তপন্থস্ক প্রভময় মুখপানে চাহিয়া স্মরণ করিতে লাগিলেন, কখনও সে মুর্তি দর্শন করিয়াছেন কি না? নির্নিমেষ নয়নে অনেকক্ষণ চাহিয়। রহিলেন, অনেক ভাঁবিলেন, মনে হইল'না চিনিতে পারিলেন না। কহিলেন, « সতাব্রত ! আপনি অসত্য বাক্যে আমারে ধঞ্চনা করিবেন এটী কপ্পনা করিলেও পাপ হয়, আপনি তপস্থী, আপনারে নমস্কার, আপনি আমারে অপরাধী করিবেন না, মিনতি করি, অঙ্গগ্রহ করিয়া বলুন» আপনি কে? আর সত্যই যদি আমার ভাগ্যবান পিতা আপনার তুল্য মঙ্থাপূরুষের প্রসাদ লাভে গৌরবাম্বত ছিলেন; তবে কি অপরাধে ভাহ।রে সে অন্ুগ্রভে বধিত করিয়া সংসারতা?গী উদ্দাসীন হইয়াছেন 2 আর একটী নিবেদন, ক্ষমা করিবেন, আপনার নাম কি ৫?

সন্গাসী ঈষৎ হাস্য করিলেন | ভীহার সেই হাস্যে তিনটী ভাব প্রকাশ হইল | এক ভাবে কুমারের সরলতীপুণ আগ্রহে পরিতুষ্টি ; এক ভাবে পুর্ব ব্বত্তান্ত স্থতিপথ।রূট ; আর এক ভাবে বর্তম[ন সঙ্গাস আশ্রমের কারণ চিন্তা ।- হাস্য করিয়াই একটী পরি- তাপবাহী দীঘ নিশ্বাস পরিত্যাগ করিলেন | কহিলেন, রাজপুজ ! আমর পরিচয় পাইয়! তুমি এখন সখী হইবে না, বরং তাহা বিপ- রীত ভাবের উত্ভজক হইবে! এখন আমি তোমাকে পরিচয় দিব না| কিন্ত তুমি নিশ্চঘ্ন জানও, যাহা আমি বলিয়।ছি, তাহা ব্াতীত আর কেহই অমি নই যে গিরিগুহায় আমায় এখন দেখি- তেছ, এখানে আমার নাম সদারশিব ব্রহ্মচারী |”

কুমার কিছু বুঝিতে পাঁরিলেন না।- ক্ষ মনে সাত পাঁচ চিন্তা করিতে লাগিলেন নেই চিন্তার অবসরে ত্রহ্গ৮।রী জিজ্ঞাণা করিলেন

পূর্ণ-শশী | ন্‌

« বুজক্ুমার! তোমার পুজাপাদ পিতার লমক্ত কুশল জন্ুবাজ্যে এখন কোনও উৎপাত নাই

অস্ুকূল উত্তর দিয় রাজপুভ্র কহিলেন, “রাজ্যে প্রতিগমন করিয়া আপনার অনুগ্রহের কথা পিক্জাকে জাঁনীইব, আপনি পরি" চয় দিলেন না, পিতা পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলে তখন আমি কি বলিব আরকি কথা বলিলেই বা আমার অন্তর্দ্ধ কৃতজ্ঞতা সুস্পষ্ট প্রকাশ হইবে 2”?

আমি স্বয়ং রাজধ!নীতে শিয়াই সকল কথা নিবেদন করিব। সেই সময় তুমিও আমর স্েছের পরিচয় পাইবে 1 এই পর্য্যন্ত বলিয়| উদাসীন যেন উদাসমনে কি পুর্ব কথ] স্মরণ করিলেন; কিছু- ক্ষণ মৌন থাকিয়| সপরিতাপে জিজ্ঞাসা করিলেন, «“ র।জপুন্র ! বিজঘপূর রাজোর কিছু সংবাদ রাখ ৫”

রাঁজপুন্্ চম্কিয়া উঠিলেন স্ষণকাল তীহার বাক্যক্কর্তি হইল না| তাভার পর মৌন ভঙ্গ কারিয় ক্ষুব্ষচিত্তে কভিলেন, পররাজা- লোলুপ ধূর্ত আরঙজজীব সেই মিত্ররাজ্য গ্রাস করিয়াছে 1”

ব্রহ্মচারী শুনিয়া ললটে তস্ত প্রদান করিলেন; অহ্হি-গর্জনের ন্যায় একটী প্রবল সুদীঘ নিশ্বাস উহ)যর নাসারন্্র ভইতে নির্পত হইল কপোল প্রাবিত করিয়া অশ্রধারা গড়াইল। নিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে স্তম্িতস্বরে কহিলেন, “আহা ! মহারাজ মহা সঙ্কটে পড়িয়া মা দুঙখেই প্রাণভ্যাপ করিয়াছেন ! এক অময়ে ছুই দিক দিয়া ছুই কাঁল ভূজঙ্ষ ভারে বেষ্টন করিয়া বাতিবাস্ত করিয়।ছিল | এক দিকে আরঙ্গ- জীব, অপর দিকে শিবজী | আহা! সময় যখন বিগুণ হয়, তখন ঘনিষ্ঠ আতীয়ের1ও বিপক্ষতা করে! মহার;ষ্রপতি শিবজী হিন্দু- জাতির পরম বন্ধু, হিন্দুবৈরী আরঙ্গজীবের নির্যাতনার্ধাঁ, কিন্ত

পূর্ণশশী |

এমনি দুর্ভাগ্য, বিজয়পুরের অদষ্টে সেই মহামনা মহারী্ীয় শির- জীও বৈরী হইলেন |” বলিতে বলিতে অনর্থল অশ্রুধারা প্রবাহিত হইতে লাগিল, ঘন ঘন দীর্ঘ নিশ্বীস ত্যাগ করিয়া উত্তরীয় বসনে নেত্র মার্জন করিলেন, কিন্ত অর কিছু বলিতে পারিলেন না, অতীত শোকরতভীস্ত ল্মরণে আর বন্যত্ত্র-রক্ষিত বিজয়পুর রাজা যবন-রাহ- গ্রস্ত শ্রবণে তাহার স্পেহকাতর হৃদয় নিতান্ত শেকাকুল হইয়া কণ্ঠ" রোধ করিল ।,

রাজকুমারের চক্ষেও জল আদিল, তিনি চঞ্চল উদ্ধদৃষ্টিতে গুহাশিখরের ইতস্তত নিরীক্ষণ করিতে ল।গিলেন, অন্তুদঞ্ধকর দীর্বস্বীস চঞ্চল বাযুসম প্রবাহিত হইতে লাগিল। রাজপুত্র কাঁদি- লেন ! এই বিভ্রম সময়ে সহসা নুতন ভাবের আঁবিভাব ! অভাবনীগ্ষ; অচিন্তনীয়, অদৃষ্টগুর্বা অপুর্ব নবীন দৃশ্য ! রাজকুমার যখন উ্ধ- নয়নে এদিক ওদিক দেখিতেছিলেন, সেই অবসরে দৈবাৎ একটী পার্খস্থ গুহাবিবরে ভাহার চক্ষু পডিল | দেখিলেন, শতদল পদ্মের ন্যায় শৌভাময় একখখনি বদন ! কমনীয় কামিনীর স্বকোমল বদন ! সেই নিগ্কলঙ্ক অমল বদনকমল ভিন্ন কমলাঙ্গীর অ।র কোনও অঙ্গ আশুদর্শনকারীর দর্শনপথের অভিথি হইল না |--সেই নিরমল কমলে উজ্ভ্বল, নীল, আকুপ্িতি অলকাবলী বেন মধুলুদ্ধ দধূপাবলীর ন্যায় স্রশ্শোভিত ভ্রমরেরা যেন সেই প্রফুলমুখপঙ্কজে মনের জাবেশে মধুপান করিতেছে ! উড়িতেছে না, নড়িতেছে না, এক স্থান হইতে স্থানান্তরে যাইতেছে না,-স্থির, অঞ্চল, অটল অপুর্ব শোভা !

রাজপুত্র এই শোভ1] দেখিলেন। নয়নে নয়নে সঙ্গতি হইল, গ্রস্ষটিত হেমপত্ম সঙ্গতি মাত্রেই মুদিত হইল, দশকের নয়ন্‌কে নৈরাশ; নীরে ভাগাইয়া পদ্মটী সহসা অন্ধকার-নীরে ডুবিল।

৮৮518

মুখখাস্তি এরিয়া গেল ;--আর দেখা গেল না !-কুমার পুর্বত্তাব ভুলিয়া গেলেন ।--যোশীর মুখে বিজয়পুরের ছুর্দশ। শুবণ করিয়া ইকরণে যে পারতাপ উদর হইয়াছিল,-সে ভাঁব অন্তরে গেল+--

ভাঁকিলিন। কি দেখিলাম 1 স্বপ্ন না, স্বগ্ কেন £স্গষ্ট দেখিলাম) রমণী-বদন ' অনা- ব্রত সৌগন্বঘুস্ত সুন্ষিপ্ধ পদ্মপু্প [স্বর্ণ কেন ঠষথার্থ রমশী- রত্র।--সে কিট তপস্বীর আশুমে রমণী £-সংসার-বাঁসনানিরাগী সন্াসীর গিরিগুহায় যুবতী রদণা £--ইহ।ই ব| কিরূপে সন্তবে তবে কি কোনো দেবতা আমাৰ ভুঃসদয় দেখিয়া মায়া দেখাইয়া গেলেন 2 নাতিতিভাই বা ভইবে কেন টদর্শন মাত্রেই সে

অকস্মাৎ প্রেমভাবের উদয় !

হাব ভারাইলাম না (চারি চক্ষে দেখা হইল, তাহার চক্ষু আমার মন্র অঙ্গাভে আমার চক্ষের সহিত কথা কহিল, কথা কহি-

এই ত্রহ্মচারী নিঃসন্দেহই মায়াবী" ইনি আমারে পরীক্ষা করি- বার নিমিত্তই এই রজনীতে এই প্রকার মগ মারা বিস্তান্ত করিয়াছেন! ইহাকে যদি জিচ্ভাসা করি, উত্তব্র পাইব না, কোনো কথার প্রক্কত উত্তরই ইনি আমারে দেন না। অংমি হতবুদ্ধি হইলাম! বামাবদন আগারে মাঁয়ামগ্ন করিয়াই অন্বশা হইল!

রুঙ্গারকে বিমনক্ক দর্শন করিয়া ব্রক্মাচারী ঘেন কি ভাবিলেন তাবিয়। মৃছুশ্বর কহলেন, রাজক্ুসার ' আমি বুঝিতে গারিতেছি, ভোমার পিতার মিত্রর!জা বিজয়পরের শেচনীয় পারণম তেণমার

রড,

হৃদয়কে নিদারুণ বাথা দিতেছে, অতীত ছ্ুঃখরত্ান্ত আলোচনা-কালে বশুশানের নায় অন্গুভূত হইয়া, স্েহকোমল হৃদয়কে এই প্রকার বিচঞ্জল কবে, সেটী আমি জানি | গ্রমঙ্গ তাগ কর, শান্তি

১০ পূর্ণ-শশী |

রসাস্পদ আশ্রমের উপযুক্ত প্রসঙ্গ নয়, প্রসঙ্গ ভ্যাঞ্চরুর ৮- তুমিও কর, আমিও করি, ক্রমে রাত্রি অধিক হইতেছে, স্মস্ত দিবস পরিশ্রীস্ত আছ; বিশ্রামের অবসর আগত, এই অবসরে আমার একটী প্রার্থনা

রাজপুত্র চকিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, প্রার্থনা £ অকিঞ্চনের নিকটে মহা পুরুষের প্রার্থনা আমার পক্ষে স্টৌ অন্গপগ্রহঃ অন্থমতি করুন্‌।

ব্রহ্মচারী কহিলেন, আমি যখন সংসারী ছিলাম, সেই জময়

ত্বমি একটী কন্যা পাই, তখন তোমার বয়স পাঁচ বৎসর, তোমার

পিতা আম।রে যথেক্ট অনুগ্রহ করিতেন, সেই ভবসায় আমি তাহাকে বলি, আপনার পূজ্রের সহিত এই কন্যার বিবাহ দিতে হইবে | তিন্সি প্রতিশ্রুত হন, তুমি সে প্রতিজ্ঞা জান না, কিন্ত আমি ভুলি নাই। সময় বিপর্যয়ে আমি সংসারতাণগী হইয়াডিৎ কনাটী আমার সঙ্গেই আছে ভীহ্ার জননী নাই, মহ্াষায়ায় বিষুগ্ধ হইগ্া উদাসীন আশ্রমেও দেই কন্যাটী লইয়া আমি উদাসীন আশ্রমী। তুমি তাহার পাঁপিগ্রহণ কর

রাজবুমারের মন চঞ্চল হইল কিঞ্চিৎ অগ্রে যে জগতৎমোহন বদন নিরীক্ষণ করিয়াছেন, তাঙ্ক1 মনে পড়িল। বনু কষ্টে চিত্তবেগ স্ংধত করির1 কহিলেন, নরদেব ! কেমন আজ্ঞা করিতেছেন ?" আমি ক্ষত্রিয় আপনি ক্ষত্রিঘ্প্রুজ্য ব্রাহ্মণ | হীনবণ হইয়া দ্বিজকন্যাকে কিরূপে পরিগ্রহ করিব 2 ব্রাঙ্গণের অবমাননা হইবে, বংশমর্যাদ। লুপ্ত-সম্রম হইবে, আমারও অপধর্থ হইবে, চক্দ্রবংশশেও কলক্করেখ।

পড়িবে সদাশ্িবের চক্ষু বিস্ফীরিভত হইল, বিস্কীরিত নেত্রে ক্রোফোজ্জ

পূর্ণশশী | ১১

লোহিভ্‌ /রখা দৃষ্ট হইতে লাগিল, কহিলেন, চক্রবংশে কলঙ্ক বংশমর্ধযনদীর হানি রাজকুমার ! কারে তুমি কথা খুঝ।ইতেছ রাঁজপুজ্েরা যবনের শ্বশুর হইয়াছেন জান £ ক্ষত্িয় রাজার। ্ব্য- লোতে অন্ধ হইয়! যখন যবনে কন্য। ভগিনী সম্প্রদান করিতে অকু- ঞিত হইয়াছেন ; তখন শ্রেষ্ট বর্ণ ব্রাহ্মণ স্বইচ্ছায় তোমারে কন্যা দাঁন করিতে যত্ুবান্ত কি বলিয়। তুমি অগ্রীস্থ কর মৌগল সআ- টেরা বিষধর রজঃগৃতগণকে বিষহীন ভূমিলতার ন্যায় নিঃসার করি- য়াছে। তুমি তাহা বোধ হয় বিশেষ অবগত নও” সেই জন্যই আমার বাঁগ্দীন তোমার পিতার প্রতিশ্র্ঘতির প্রতি অবহেলা করিতেছ। সেনাপতি মাঁনসিংহ জহাশীরের সভীয় যেরূপ সম্মান প্রাপ্ত হুইয়াছিলেন, তাহা! তোমার জানা নাই তে'মার পিতার সহিত জম্বুরাঁজধানীতে যখন আমার সাক্ষাণ হইবে, তখন জানিবে, ক্ষত্রবংশে যবনবংশে আজকাল কত দুর নিকট জন্বদ্ধ, আর তুমি কোন্‌ ত্রন্মবংশে দর পরিগ্রহ করিয়া বংশ কলঙ্কিত করিলে, সেটীও জানিবে

ত্রক্ষচারীর কৃত্রিম কোপ যুবরাজ বুঝিতে পারিলেন না গুহা- বিবরের বিদছ্বাৎপ্রতিম মুখখানি অন্তরে জগিতেছিল | কতক শঙ্কায়, কতক অন্গুরাণে, বিএকন্যার পানিগ্রন্থণে সম্মত হইলেন | সম্মত হুইয়] কহিলেন, এক্ষণে নহে অখমে তীর্ঘষ+ত্রা করিতেছি | অন্গুচরেরা কে কোথায় গেল, কিছুই জানলাম ন।। প্রাতঃকালেই আমারে তাহাদিগের অন্বেষণে যাত্রা করিতে হইবে,প্রতাগমন কালে পথে আসিব কি না, তাহারও স্থিরত। নাই আশা কহিয়া দিতেছে, রামেশ্বর দর্শন করিয়া সাগরসঙ্গমে যাইব, তথা হইতে উড়িষা ধাঁষ্চে মহাগ্রভু জগন্সীথ দেবকে দর্শন করিব, পথে আস

১২ পূর্ণশশী

হইবে না। কিছু দিন পাটনায় অবস্থিতির প্রয়োজন্ন আছে। মেই সময় আমার অন্গচরের] আপনার আশ্রমে উপস্থিত হইবে, আপনি তাহাদের সমতিব্যাহারে কন্যাকে পাঠাইয়া দিবেন হয়, সেই স্থানে অথবা পিতৃরঠদপাটে আপনার কন্যার পাণিগ্রহণ করিব |

সদাশিব হাস্য করিয়া কহিলেন, যুবরাজ! তোমার অঙ্গীকারে আমি পরম আপ্যায়িত হইলাম

নিশ্চিত উক্তির নিশ্টয়তা স্থিরতর ভইবার অগ্রে দ্বিযাম রজনী স্বভাব-ঘটিকায় বিঘোবিত হইল প্রতিশ্রুত প্রতিষ্রতি নিশাগর্তে শাদিত হইল রজঃপূত রাজপন্্র কম্বলশয্যায় শয়ন করিয়া নিশী- যাপন করিলেন প্রাতঃকালে গত নিশার অঙ্গীকাঁর দৃঢ় বদ্ধ করিয়া ঘ্বে'টিকীরোছণে দক্ষিণাতিমুখে যাত্রা করিলেন? ফখন যাত্রী করেন, তখন তপস্থীকে একবার জিজ্ঞাসা করিলেন যে স্থান হইয়া আমি যাইতেছি, এটী কেন্‌ স্থান সদাশিব উত্তর করিলেন, পরম পবিত্র ব্রন্মবি-পরিসেবিত নীলার এই পব্ধত সর্ধ সাধারণে নীলগির নামে প্রসিদ্ধ

যুবর।জ ব্রহ্ধচারীরে অভিবাদন করিয়া ঘোটকারোহণে যাত্রা করিলেন সঙ্গী লৌকের| কে কোগ।য় আছে, কিছুই জ।না নাই, অথচ তাহাদিগকে দেখিতে পাইব, এই প্রত্যাশায় অবিশ্রাত্ত অশ্ব- চাঁলন করিতে লাগিলেন | সুদূর বন্মে অন্ুযাত্র লোকেদের সন্িত সাক্ষাৎ ভইল। ঝড়রষ্টিতে যাঁভার পক্ষে যখন যে ঘটনা হইয়শছিল, বলিলেন, শুনিলেন অনুযাত্রেরা যুবর(জকে সম্মুখে দেখিতে পাইয়া প্রচ্ুল্পচিন্ত হুইল সময়ে তিনি কোথায় ছিলেন, কি ঘটনা হইয়া- ছিল, সকলে গশুনিল। তাহা দিগের যাঁহ। যাহা ঘটিয়ছিল, অক্চ্চ্ছিদে

পরশ ১৩

বর্ণন করি যুবরাজ একান্ত মনে সমস্ত শ্রাবণ করিয়া প্রকোধিত হইলেন 1"

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ। কমলে কামিনী |

“তুই বুঝি হবি মম, পিঞ্জরের পাখী জলোচন সিউল জলিল

এক বৎসর অতীত হইয়া গেল বুবরাজ পাটনায় উপনীত হইলেন | পাঠক মভাশয় ! এই রাজপুল্রের বিশেষ পরিচয় জানিতে চাঁন £ সে পরিচয় আজ আমি আপনারে বলিব ইনি কাশ্ীরপতি মহাবাহ্ু আদিতা সিংহের একমাত্র পুত্র নাম শশীন্দ সিংহ | গড়ন নাতি দীর্ঘ; বণ তপ্তকাঞ্চন সদৃশ ;--হস্তপদ মে]লায়েম) বক্ষস্থল বিশাল ;১-বিশ।ল অথচ স্থুল; বাহুযুগল পীবর ;--গণস্থল পুরস্ত)-চক্ষু স্ুপ্রশত্ত, উজ্জ্বল; কেশ দীর্ঘ, গুচ্ছ গুচ্ছ কুঞ্চিত; ঘোর কৃষঞ্জবণ ; বয়স অন্থমান দ্বা'বংশতি বত্সর |

শশীক্দ সংহ পাটনায় আসিয়! শিবির স্থাপন করিলেন | নীল- গিরি নে পড়িল ;গুহাবিবরের ক্ষণগ্রভ পদ্মটী মনে পড়িল। মনে মনে জাগিতেই ছিল, অন্গুর!গে নুতন হইয়া উাঁদত হইল ।-_ তপস্থীর কাছে যে অঙ্গীকার করিয়শছেন, সেটীও স্মরণ হইল এত দিন সহ্ছচরবর্থের নিকটে এই গঢ় কথ! অপ্রকাশ রাঁখিয়।ছিলেন, আজ এক জন বিশ্বীসভীজন বয়স্যের কাছে সেটা ভাঙ্গিলেন 1 ভাঙ্ষিলেন বটে,কিন্ত বিবর-সরসীর সেই অমল কমলটী তাহার মানস-

১৪ পুর্ণ-শশী।

সরোবরের পদ্ঘিনী কি না, সে সংশয় দূর করিতে পাবিলেন না | সাত পাচ ভাবিয়] গিরিবাসীর বাগদত্তা কন্যাকে আনয়ন করিতে লোক পাঁঠাইলেন | কহিয়া দিলেন, ব্রহ্মচারীকে আমার প্রণাম জানাইবে, অঙ্গীকার পাঁলৰ করিব বলিবে, আর তিনি যে একটী কুমারী দিবেন, সঙ্গে করিয়া আনিবে | কোথায় আনিবে, সে কথ ।ও বলিয়া দিই।--পাটনায় আমার সাক্ষী পাইবে না। কিছু দিন প্রয়াণ বাস বাসনা আছে ; শীন্ত্র বদি ফিরিতে পার, তথায় স।ক্ষ।ৎ হুইবে, বিলম্ব হইলে একেবারে রাজধানীতেই চলিয়। যাইও আরও একটী কখ|। আমার সহোদরার প্রিয় গাঁয়কা পত্রিকারে এখানে আমি আনাইব, আমি এখানে না খাকিলেও পত্রিকা থাকিবে তোমরা আসিয়া পৌছিলে তারে এখানে দেখিতে পণইবে তপস্থী- কন্যা তোমাদের সহিত কথা কভিবেন না, পত্রিকার সঙ্গে আলাপ করিবেন; আলাপ করিয়া স্ুখীও হইবেন আমি বলিতে পারি, পত্রিকা তার চিত্ত বিনোদন করিতে পারিবে |

অন্গচরেরা তপস্বী-কন্যাকে আনিবাঁর নিমিত্ত নীলগিরি অভিমুখে যাত্রা করিল। র।জকুমার পাটনা হইতে শিবির উঠ।ইলেন | কোথায় গেলেন, কোথায় যাবেন, কাহাকেও বলিয়! গেলেন না। কেবল এই একমাত্র ইঙ্গিত থাকিল, কিছুদিন প্রয1ণে থাঁকিবেন, সেখানে ষদি সাক্ষাৎ না হয়, জন্ুরাজধানীতে মিলন হইবে 1 ভীহ।র মনে কি ছিল, আমর] জানিতাম না, সুতরাং পাঠক মহ।শয়কে জানী- ইতেও পারিলাম না| মহারাষ্পতি শিবজী যে দিন ফুলের ঝুড়ির উপর বসিয়া-দিলী হইতে পলায়ন করেন, তাহার পরদিনে কুমার শশীক্র সিংহ দিলীনগরে প্রবিষ্ট হন, শিবজীকে তিনি মান্য করিতেন, কিন্ত মারা্রপতির কিন্করেরা সেই গুপ্ত বভান্ত যুবর/জকে জ'নাইল

পুণশশী। ১৫

না। শ্িঙ্গী পলায়ন করিয়াছেন, আরঙ্ষজীব তাহ] জানিতেও পারেন নাই তাহার পারিষদেরা একেবারে ছুটী সংবাদ দিল | কাশ্মীরপতির পুত্র রাজধানীতে প্রবিষ্ট, আর মহা রাস্ট্রীয় শিবজী সহসা অঙ্গদ্দিষ্ট | মোগল সআ্রাট্‌ শশীন্দ্রকে উদাসমনে অভ্যর্থনা করিলেন, কিন্তু শিবজীর পলায়নে তাহার চিত্তের অস্থর্ধা গোপন্‌' থাঁকিল না| মনের প্রকৃতি যখন ষে ভাঁবে থাকে, তখন যাহাকে সম্মুখে পায়, তাহাকেই সেই ভাব বিজ্ঞাপন করে। বাদসাহ অস্থির- চিত্তে শশীন্দ্র সিংহকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কুশল % শিবজী কোথায় রাজপুজ্র বিস্ময়।ন্বিত হইলেন শিবজীচকে তিনি নামে শুনিয়। ছিলেন, চক্ষে কখনো দেখেন নাই, সত্্াটের প্রন্মে কি উত্তর দিঘেন,' নতমুখে অনেকক্ষণ চিন্তা করিতে লাগিলেন | আরঙ্গ- জীবের মহা ক্রোধ হইল | কহিলেন, তোমার পিতা যদি আমার মিত্র না হইভেন, তাহ1 হইলে তুমি এখনি জানিতে পারিতে, বাব- রের বংশের সন্তানেরা এমন অবস্থার আপস্তকের প্রতি কিরূপ আচ- রণ করেন! তুমি আমার চিরশক্র শিবজীকে মুক্ত কাঁরয়। দিয়াছ, বিচারে তোমার প্রাণদণ্ড হওয়। ন্যাযা, কিন্ত মিত্রপুত্র বলিয়া ক্ষমা করিলাম | যদি ইচ্ছ? হয়,অভীষ্ঈ স্থানে প্রস্থান কর দিল্লীতে থাকি- বার উপযুক্ত পাত্র তুমি নও রাঁজপুক্র করযোড়ে উত্তর করিলেন, জাহাপনা অধীন কোন তত্ব পরিজ্ঞাত নছে | শিবজী আমার পিতার মিত্র বটেন, কিন্ত আমি উহাকে দেখি নাই | তিনিও আমারে চেনেন না। মহারাষ্ট্রের অধিরাজ সিংহের সহিত শক্রতা করিতেছেন, তাহা আমি জানিও নাঁ। তিন বত্সর আমি দেশেও ছিলাম না। অজ্ঞাতে যদি কিছু অপরাধ করিয়] থাক, ক্ষমা প্রার্থনা কার যু্রাঁজের সমস্ত সান্ুনয় বাকা বিফল হইল আরঙ্গজীব

১৬ পূর্ণ-শশী |

ত্রাস্থাকে অবিলম্বে নগর খভিষ্করণের আজ্ঞ1 দিলেন কাঁশ্পীর যদিও দিল্লীর অনধীন, তথাপি রাজপুত্র দ্বিরুক্তি না করিয়া বাদসাছের হুকুম মাঁনা করিলেন। যেখানে ভরীহ!র যাইবার ইচ্ছা ছিল,সেইখানে চলিয়। গেলেন | কোথায় যাইবার ইচ্ছা, তাহা আমরা বলিব না। ছয় মাস অতিক্রান্ত হইল পাটনাতে একটী শিবির আছে ছুই চার জন পার্খবচর ভিশ্ন অপর কেহই তথায় নাই একটা জ্ানমুখী কনা! সেই শিবিরের অধিষ্ঠাত্রী। কেহ তাহার কথা শুনিতে পায় না। কে তিনি, পরিচয় জানিতে পারে না। লোক নিকটে আপিলে লজ্জায় অবগ্ু৯নবতী থাঁকেন ; হঠাঁৎ দেখিলে মনে হয়, বঙ্গীয় অব- রোধবাসিনী কোনো পুবস্জ্রী। কিন্তু তাহা ভিনি নন, পুর্কের কথিত রাজকুমাব শশীন্দের নিয়োজিত সঙ্গীতচ্ছ নায়িক', সেই পত্রিকা যদি গামিক'ঃ তবে অবগ্ড»ন কেন ₹-কে জানে ৮2 তাহার মনের ভাঁব কে বলিতে পারে যদি রাজপুজ্জ পাটনায় থাকিতেন, জিজ্ঞাস! করিতাম, এখন সে উপ্রায়ও নাই। আরঙ্গজীবের অপমানে তিনি যে কোথণয় পিয়ীছেন, তীষ্কা কেহই জাঁনে না! অবণ্ঠন্বতী রমণী একাকিনীই, সেই শিবিরের রক্ষযিত্রী কত্রী। যখন তিনি কথা কন্‌, তখন কিন্কর কিন্করীরা আগন্তক বিবেচনায় রাজকুমারের সময়ে চিত আঙ্ঞা প্রতিপালন করে। পরিচয় জিজ্ঞাসা করিবার একটীও লোক শিঁবরে নাই আমাদিশের পুর্ব ইঙ্গিত অনুসারে পাঠক মহাশয় বুঝিবেন, এই অবগু৯নবতীর নাম পান্রিকা। আর এক মাস অতীত হইয়া! গেল, অল্ুচরেরা ফিরিয়া আসিল না। পত্রিকা উদ্দিগ্রমনা হইলেন এক জন কিন্করীকে ডাকিয়া! জিজ্ঞাস! করিলেন, আর কত দিন সে সপম্রনে জিজ্ঞাসা করিল, কফি কত দিন দেবি ! পত্রিকা কহিলেন? রা/জপুন্র ষা বলিয়াছিলেন, সে কত দিন ?

পুর্ণশম্পী | ২৫

অনুচী মুখপর্ণনে চাহিম্1! রহিল, কিছু উত্তর করিতে পারিল না। রাজকুমার কি কথা বলিয়া! গিয়াছেন, সে তাহ] জানিতও ন]। সুধু সে কেন, সহচরীর1 কেছই জানিত না রক্ষক পার্খচর, অল্গ- চর; যাছারা শিবিরের তন্বাবধান আয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্ষ্য নিযুক্ত ছিল, তাছারা জানিত, কিন্ত ভাহাদিগের সহিত লকজ্জাবতীর সাক্ষাৎ নাই | কিন্করীর] রাজপুজ্রের নিদেশ অবগত ছিল ন1 কেন 2৭ কারণ আছে। রাজকুমার যখন শিবিরে ছিলেন, তখন একজনও স্ীলোক সঙ্গে ছিল না, সুতরাং পরিচারিকা ছিল না। পত্রিকা আসিবে, এই নিমিত্ত উহারা নুতন ভর্তি হইয়াছে ; কাজেই পত্রি- কার প্রশ্সে উত্তর করিতে পারিল না। পত্রিকার বদন একবার বিষঞ্জ, এরবার প্রসন্ন, একবার অন্যমনস্ক, আবার তখনি উজ্জ্বল হইল। মৃছু নতমুখে ঈষৎ হানি আদিল এত ঘন ঘ্বন কেন ভাবান্তর £-- কে বলিবে

এক জন্‌ সন্থচরী কিছু অধিক চতুরা ছিল, সে কাছ মাচু মুখ করিয়। জিজ্ঞাসা করিল, দেবি! রাজপুত্র কে ট--আপনি গন্ধর্ব- কুমারী, আমর1 আপনারেই চিনি”-আপনার লোকেরাই আমাদের এখানে আনিয়াছে,-রাজকুমার কে 2-আর তিনি আপনারে কি কথাই বা বলিয় গিয়াছেন পাঠক মহাশয় এখন বুবি- লেন, জসামাদের পত্রিকা এই সহচরীদের নিকটে পন্ধর্ধকনা। নামে পরিচিতা |

“রাজকুমার কে ?--সহচরীর এই প্রঙ্জে পত্রিক! মুখ টিপিয়া একটু হাঁসিলেন ;--কহিলেন, কাশ্মীরের যুবরাজ ;---ম্হারাজ আদিতা সিংহের পুত্র ;--নাম শশীক্্রশেখর | তিনিই আমারে এখানে রাখিয়া প্রস্থান করিয়াছেন |--বলিয় গিয়াছেন, প্রয় গং

২৬ পূর্ণশশী

তীর্থে চলিলাম, শিয়াছেন কি না, বিশেষ জানি নাঁ। আমি সেই রাজপুত্রের সহোদর রাজকন্যার গায়িকা

সহ্ছচরী যেন কি স্মরণ করিয়! কহিল, হ্বা দেখি, আমার মনে হইতেছে, নামে একজন রাজপুত্র এখানে কিছু দিন ছিলেন বটে ভিনি জাপনাকে কি কথা বলিয়। গিয়াছেন ?

পত্রি।-এই কথা বলিয়া গিয়খছেন, নীলগিরি হইতে একটী ভপস্বীকন্যা এখানে আসিবে, আমি ভীহাকে সঙ্গে করিয়া রাজ- ধানীতে যখইব 1 যত দিন তিনি না আসেন, তত দিন পাটনায় এই শিষির থাঞ্চিবে। অনেক দিন এখানে আছি, মন চঞ্চল হইয়খছে, আর থাকিতে প্রাণ চায় না। যখন আমি প্রথমে এখানে আসি, তখন তোমরা ফেছই ছিলে না, কেবল রাজপৃভ্রের ৪1৫ জন গীর্খচর ছিল, তাহার] পাহ্নারীয় থাকিত, আমি বন্দিনীর ন্যায় একাকিনী একটি বস্ত্রগছে বাস করিতাম তদবধিই মন চঞ্চল আঁছে, সেই জন্যই জিজ্ঞাসা করিতেছিলাম, দে আর কত দিন 2

সহ ।-া, দেবি ! এখন বুঝিলাম, কিন্তু তপস্বী-কনা। তপশ্থী-কন্যা লইয়া রাজপুত্র কি করিবেন ?

পত্ধি1---সখি ! আমারও মন কথা জিজ্ঞাসা করে 1-শুনি- যাছি, রাজকরুমীর সেই কুমারীকে বিবাহ করিবেন

হু 1--বলেন কি দেবি ! ক্ষাত্রয় রাজকুমার তপস্থী কন্যাকে বিবাহ করিবেন ;--তপস্থবীর| ব্রঙ্মযো শী ব্রাহ্মণ

গত্বি ।--তীও জানি, কিন্তু ত্রাঙ্মণের নিকট প্রতিজ্ঞা

গছ (কি এমন প্রতিজ্ঞা দেবি

পত্রি ।-_-এই প্রতিজ্ঞা, তপস্থীর কন্যাকে রাজপুক্র বিষন্ন করি সেন | রাজকুমার যখন তীর্থ বাদ্রা করেন, সেই সময় সদাশ্খিব, নামে

পূর্ণশশী 1 ২৭

এক ব্রন্ধগারীর কাছে এইরূপ অঙ্গীকার আছে আর আমি এচীও গুনিয়াছি, যুনিকন্যা খন এখ।

কথোপকথন চলিতেছে, এমন সময় একজন খোজা আিয়। সংবাদ দিল, অল্ুচরেরা ফিরিয়াছে, শিবিক1 আসিয়াছে |

পত্রিকা সসভ্রমে উঠিয়া দীড়াইলেন, সহচরীরাও দড়াইল। কাপড়ের কানাত ঘেরা একটি মুর্তি ঘৃহমধ্যে প্রবিষ্ট হইল | ছুটি সহচরী আর পত্রিকা ভিন্ন সে ধুহে আর কেহই ছিল না! কানাতি মোচন হুইল একটি পরম সুন্দরী রমণী বাহির হুইজেন। সঙ্গে একজন শ্মশ্রুধারী ব্রহ্মচারী ত্রহ্মচারীর বর্ণ ছুধে আল্ত। গোলা, হস্ত পদ শীর্ণ, মস্তকের কেশ রজতের ন্যায় শুভ্রবর্ণত আনাভিলস্কিত ম্মৃগ্রু গুভ্রবর্ূ, বক্ষস্থলের লোমাবলী, চক্ষের পাতা জধুগল শুভ বণ, কর্ণবিবর শুভ্র লোমে আচ্ছাদিত, গড়ন নাতিপীত্ঘ; নাতি হ্স্ব বয়স অন্গমাঁন ৬০ কি ৬৫ বৎসর

সমাগত কামিনীর আকার মধাবিধ, রং চম্পক বর্ণ ঈষৎ গোলা পীর আভা, শরীর নিতান্ত স্কুল নয়, কৃশও নয়, আমাদিশের দেশে ঘে রকম হইলে, সুন্দরী রমণীকে স্ন্দর মানায়, হুন্দর়ী সেইরূপ স্ন্দরী। বক্ষস্থল য্কিঞ্চিং স্কুল, সেই স্ুলতায় কোমলতা! মাখা, হার! শতদল পন্মে মনোযোগ দিয়া নবীন কোরক দর্শন করিয়া ছেন, ভাবনা করুন, সেইরূপ প্রতিম1 | বাহু, জঙ্ঘা, উরু, করপল্লব নিটোল কোমল | বদন্মগুল প্রস্ক,টিত শতদল ; অক্ষিপল্লব আর ছুটি জরেখা যেন সেই শতদলে মধুলোভা। ভ্রমর | কাখ ছুটি ছোট ছোট, গগুদেশ প্রফুল্ল, খগ্পক্ষী আর বিশ্বফল যদি আমা দবিগকে অকৃতজ্ঞ মনে না করে, তাহা হইলে আমরা বলিতে পারি; এই নরস্মন্দরীর নাসিকা আর ওষ্ঠীধর খগচপ্চ বিদ্বফলের দ্পচূর্ঘকা রী

২৮ পুর্ণশশী 1

নিখুত পদচ্স্বিত গাঁড় ক্কষ্ণ চিকুরঃ ষেন শারদীয় কাদন্বিনী। নেত্রপুট ঈষৎ রক্তছটা-ল।ঞ্তি উজ্জ্বল ভ্রমরবর্ণ, পরিমাণে আয়ত শঞ্চের একটু উপরে, কর্ণের একটু পার্থ ললাটের একটু নীচে; কুঞ্চিত কুঞ্চিত অলকামালা। আমি যদি এই খানে কবি হইতাম; তাহা হইলে ক্পন। সতীর জঙ্কগ্রছে বলিতে পারিতাম, স্ুরভি কমলের পরিমলে যুদ্ধ ছইয়! তিন চারি শারি মধুকর ধারে ধারে উড়িতেছে। পটাবাসে অল্প অল্প বাতীসে, অলকাদাম অণ্প অন্প উড়িতেছে। কপালে স্বেদবিন্দু যেন ভোট ছোট মুক্তামালার ন্যায় বালকাদের তির 'প্রাতানাঁধ হইয়াছে অঙ্গে একখানিও অলঙ্কার নাই। ছুই হাতে দুগাছি মৃণালের বালা, সলায় একছড়া কুন্দপুষ্পের হার, পরি- ধান গেরুয়া বসন, তথাপি সেইরূপে দশদিক প্রভাময় | এমনি কূপে গুহস্থের খর আলো করে যে রূপে নিলগিরিবাজী সঙ্্যাসীর কুটীর আলো করিতঃ দেই রূপে এখন পাটনার শিবির আলো করিতেছে বয়স পঞ্চদশ বৎসরের সীম1 অতিক্রম করিয়াছে, কি করিতে যায় £“ গিরিগুহাবাদী মুনিকন্যার কি এত রূপ !1৮--সহচরীরা এই ভাবিয়া, যেন ছবির ন্যায় স্থির তাবে একদৃষ্টে চাছিয়। রহিল পট- বাসবাসিনী পত্রিকা সেই রূপ দেখিলেন ! অকম্মাৎ ভাহার কলে- বর শিহরিয়া উঠিল, প্রফুল্ল মুখখানি কিছু মলিন হইল, _্্রীলোকে অন্যমনস্ক হুইয়! যখন কিছু ভাবে, তখন তাহার চক্ষু, তাহার অধর, আর তাহার লাবণ্য, যেমন মলিন দেখায়” তেমনি মলিন স্রীলোকের রূপ দেখিয়? স্ত্রীলোকের শরীর লোঘাঞ্চ কেন £ বদন বিষগ্নই বা কেন £ অন্তরে অন্তরে অন্যমনস্কই বাঁকেন এই তিন প্রস্মের উত্তর জামি দিতে পারি না; পত্রিকা যদি দরল হুইয়। বলেন, তাহা হইলেই দন্দেহ ভঞ্টন হয়।

পূর্ণ-শশী। ২৯,

সকছেই উপবেশন করিজেন। বৃদ্ধ ব্রহ্মচারী ভিন্ন, শিবিরে এখন পুরুষ সপ্গার নাই তবে, কথাও বলিতে হইবে না, পত্রিক1 আর সুনিকন্যা, ইহাদের উভয়ের যুখেও অবগুঠন নাই ছুী নায়ি- কাঁরই ঘোমটা খোলা উতয়ে উভয়ের মুখ দেখিলেন। আনন্দ, বিল্ময়ঃ সংশয় একত্র হইল। ম্ুতন দর্শনে, পুনঃ পুনঃ বিসদ্ৃশ ভাব কেন, সময়ে জানিবেন, এখন নছে।

তপস্বীকন্যা যখন শিধিয়ে আইসেন, তখন রাত্রি এক প্রহর অতীত শীতকালের রাত্রি, অধিক কথোপকথন হইল না, দংক্ষেপে আগন্তক পরিচয়ে মিলন হুইলমাত্র আহারাদি সমাপনান্তে সকলে আপন আপন নির্দিষ্ট স্থানে বিশ্রাম করিতে গেলেন যখন শয়ন করিতে বান) সেই সময় আগন্তক ত্রহ্ষচখরী পক দিক বক্র কটাক্ষপাঁত করিয়। মুখ বিকট করিলেন | কেন করিলেন, তিনিই ইহার উত্তর দিবেন | আমরা তপস্বীকন্যটাকে শতদল কমল বলি- মাছি আর পতিককে বিদেশিনী কামিনী বলিয়াছি | পাঠক মহাশয় ! আভাসে বুঝিবেন, এই রাত্রে শুভ সংযোগ কমলে কামিনী |”

৩০ পূর্ণ শশী | তৃতীয় পরিচ্ছেদ।

তলাপ।

“মরল অন্তরে বল, কারে তুমি ভাল ডা স্থধইলে স্ুধামুখি ! মুচকি মুচকি হাসো |” নিধু বাবু। ₹তন দিন অতীত হইয়া গেল দেখাদেখি হয়? কথাবার্তা হয়ঃ কিন্তু কেছ কাহারও পরিচয় প্রাপ্ত হন না। চতুর্থ দিবসের সন্ধা" কালে, পত্রিকা দেবী হাসিতে হাসিতে গিরিকন্যাকে জিজ্ঞাসা করি- লেন, প্রিয় সখি ' সত করিয়া বলঃ তুমি কে তপস্থীকন্যা কহিলেন, আমি তোমার প্রিয় মথী হইবার যোগ্য নি। দেখিতেছি, তুমি র।জকন্যা, আমি বনবাসী খধিকন্যা, তুমি আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিতেছ, কিন্ছ আমার পরিচয় আমি জানি নঃ। কে আমার পিভা, তাহাও আমি জনি না! সদার্শিব ব্রহ্মচারীকে আনি পিতা বলিয়। জানি, কিন্ত আমি ভীহার কনা! কি না, সেটি ঠিক জানি না। পত্রিকা হাসিয়া উঠিলেন,_কহিলেন, খবি-কুমারি! তোমার উপযুক্ত কথাই এই বটে! আমি শুনিয়াছি, কাশ্মীর রাজ্োর রাজ- কুমার শশীন্দ্রশেখর, যিনি এই শিবিরের অধিস্বামী, তিনি তীর্থ যাত্রা উপলক্ষে, তোমার পিতার গিরিগুহায় অতিথি হইয়াছিলেন। মুশিবর কন্যাদানে প্রতিশ্রুত হন, রাজকুমার অঙ্গীকার করেন, তুমিই সেই অঙ্গীক্কৃতা কন্যা | রাজপুত্র যখন পাঁটনা হইতে প্রয়াগ যান, সেই সময়ে আমারে ব'লয়া গিয়াছেন, তুমি আমিলে ছুটি

পূর্ণ শশী | ৬১

একটি সঙ্জীত করিয়া, আমি যেন তোমার মনোরঞ্ন করি | শুনিয়া বড় লঙ্জা ₹ইয়।ছিল | আমি রাজনন্দিনীর গায়িকা বটে। কিন্তু মুনি- কন্যারা সে রকম সঙ্গীতে সন্থষ্ট ক্কি না, তাহাই ভাধিক্স1 লজ্জা] | আচ্ছা প্রিয় মখি ! তুমি তোমার আপনার পর্দিচয় আপনি জান না, কে তোমার পিতা তাহাও জান না, ফাঁহাকে পিতা বল, তিনিও যথার্থ জনক কি না, তাহাতেও তোমার সন্দেহ | এগুলি কি আগার সঙ্গে পরিহ্বা।স রাজপুজ্জ এখানে নাই, তোমার আদর করিবার জন্য তিনি আমায় এখানে রাখিয়া] শিয়াছেন | পরিহাস করিও না, যাহাতে তোমার মনের পরিভৃপ্তি হয়ঃ ভাঙা আমি করিব।

মুনিকন্যা হাসিয়া কহিলেন, তপস্থিনীদের পরিহাস অভিসাপ। রাজপুত্র যাহ1 তোমায় বলিয়। গিয়'ছেন, তাহাই আমার প্রিয় |

পত্রিকা ।--সঙ্গীত করিতে বলিয়াছেন

মুনিকন্যা তাহাই উত্তম |

গাত্রকা ।--তবে বল দেখি, তোমার নান কি £

তাপসনন্দিনী ঈষৎ হাসিয়া লজ্জীবনত মুখে কহিলেন, আমি আমার নাম জানি না, আমার ব্রহ্মচারী পিতা সদাশিব বলেন; আমার নাম পুর্ণশশী।

পত্রিকার বদন প্রফুল্ল হইল,--হাসা মুখে কহিলেন, গুণশী কি সঙ্গীতের এত অভিলাষ করে ?

পুর্ণশশী কহিলেন, যাস্থাকে প্রিয়সখী বলিলাম, তাহার সুখে যাঁছ] শুনি, তাহাই শ্রিয়»তাহাই তাল বাসি | অ।মার সঙ্গে নিতা- কামী নামে যে তপস্বী আছেন, তিনিও সঙ্গীত তাল বসেন পত্রিকা শ।স্তভাবে কহিলেন,--আর রাজকুমারেরও সেই অঙ্গমতি |

ঞ্নিতন্য়া হাস্যমুখে একবার পত্রিকার মুখপানে চাঁহিলেন)

৩২ পূর্ণ-শশী একবার নতমুখে পৃথিবী নিরীক্ষণ করিলেন। কি বলিবেন, স্থির করিয়া উঠিতে পারিলেন না। পজ্িকা একবার চাহিয়া দেখিলেন, লঙ্জার নঙ্গে বাসি খেলা করিতেছে কুমারী হাসিতেছে না, কিন্তু তাঙ্কার সর্বশরীর হাঁসিতোছ। চক্ষু হাসিতেছে, ওষ হাসিতেছে, বক্ষ হাসিতেছে, গণুস্থল ফল্প কমলিনীর ন্যায় হ্ছাসা করিতেছে এই ভাব দর্শন করির] তিনি কহিলেন, বুঝিলাম, সঙ্গীত"তোমার প্রিয় বস্তু বীণা লও, আমি সঙ্গীত করিব

প্র্ণশখশী বীণা বাজাইতে আরম্ত করিলেন, পত্রিকা বীণাস্বরে গীত ধরিলেন।

( শীত)

প্রণয় ভিক্ষা দহিলে দহিলে বোলে, ভ্রমে ব্রজে আহিরিণী। শ্যাম প্রেম পিপাসিনী, রাঁধ! প্রেম ভিখারিণী। গলি গলি খুজই, নাচোত তাথই, বৃন্বাবনচক্্র প্রেম সখ বিহারিণী। যমুনা পুলীনে, শ্যামন্ূপ নিহারি, অহি শ্যাম অহি শ্যাম, বিরহ উচারি, ধাইল। মন্ত মধুকরী প্রায়?

নূপুর বাজিছে, ভ্রমর রাজিছে,মত্ত রাধিকা, বিলাসিশী। যাইযু না যমুনা, রাজকর দিমুনা,

হৈমুনা, ঘোষ দাস দাপীঃ-_ যমুনা তীরে, নয়ন নীরে, হব আজু, প্রেম বিহারিণী

পূর্ণশশী | ৯৫ বদ্ধ ব্রহ্মচারী নিত্যকামী, এই গীত শুনিয়া খল্‌ খল্করিয়। হাসিয়া 'উঠিলেন। ভগ্রদন্তে হাসিতে হাসিতে কহিলেন” আমি ভাবিয়াছিলাম, কাশ্মীরের রাজকুমার নাজ।নি কি অন্ভত পদাথ, আর সেই রাজ অন্তঃপুরের গায়িকা না জানি কি অপুবর মধুমীনদের কোকিলা | কিন্তু কি দুরদৃষ্ট, এই কি তাঁর পরিচয় পত্রিকা হাসিয়া কহিলেন, আপনি বয়সে বৃদ্ধ; কিন্তু বৌধ করি রসিকতায় বদ্ধ নন। শ্রীকৃষ্ণ রাধিকারে তাগ করিয়া গিয়ছিলেন, শত বত্সর সাক্ষাৎ হয় নাই, কৃষ্ণও বদ্ধ হইয়াছিলেন, তথাপি পুর্ণ প্রেমে প্রণয়িনী, গৌরবিনী রাধিকা, প্রেমের বিরহশীত পরি- ত্যাগ করেন নাই এক দিন, তত রদ্ধ বয়সেও ললিতাঁকে ভাকিয়! কাদিতে কাদিতে বলিয়াছিলেন,-

( গীত)

খুঁজিয়া এলেম সখি যমুনার কুলে

খুজিয়া এলেম, কেলি কদন্বের মূলে কোথাও না হেরিলাঁম, কোথায় কালিয়। শ্যাম, হায় আমি হারিলাম, লাভে আর মূলে !!

পাতি পাতি করি সখি ! দেখি কুঞ্জবন। কোথাও ফঈড়ায়ে নাই রাধিকা রমণ

যেখানে কোরেছি রাস, নব প্রেমে মাতি নবনারী কুপঞ্জে যথা সাঁজিয়াছি হাতী সেখানেও শ্যাম নাই, সব অন্ধকাঁর।

বিশ্বময় অন্ধকাঁর, আজি রাধিকার

২৬ পুর্ণশশী |

কৃহরে পঞ্চমন্রে, শাখে পিকবর শ্রীরাধিকা প্রীণে মরে, কীপে কলেবর

বেহাঁগ্‌।

ভাবিব না সখি আমি শ্যাম রতন

কৃষ্ণ বোলে ডাকিব ন। থাকিতে জীবন

যেমন বিরহ জ্বাল1, আমারে দিতেছে কাল।, তেমনি আপনি হবে, প্রেমে জালাতন খুজেছি যমুনা কুলে, দ্াড়ায়ে কদন্য মূলে, পাঁই নাই কালরূপ, রূপ দ্রশন ১--

তবে কেন বৃথা আর, বলি সই! শ্যাম আমার, আজি অবধি রাধার, হলো প্রেম উজ্জাপন

ত্রশ্মচারী নিতাকাসী আবার ভাসিয়া উঠিলেন। হাসিতে হাসিতে গুর্ণশশীরে কহিলেন, অমন গীত আমি অনেক শুনিয়াছি, ভোমরা যদি এখনই আমারে বল, সহজ সহজ বাঁধিয়া দিতে পারি ( পত্রিকার দিকে কিঞ্চিৎ সরিয়া) এক দিন ভাঁই, সে অনেক দিনের

আমি নাকি ব্রহ্মচারী, সে গন্ধ আদ্রীণ করিব না, সেইজন্য কহিল, ভুমিদূর হও | ( গুণশশীর দিকে কফিরিরা ) দেখ পুর্ণশর্শি! আমি, রদ্ধন জানি, প্রচুর রন্ধন জাঁনি, আর স্থক্টিস্থিতি গ্রল্য়কর্তার নামও জানি, কিন্ত এই পত্রিক! যে সকল শীত গাইতেছে, তাহাতে আমি অজ্ঞান হইয়াছি | একটি কথার সহিত ছুটি কথার মিল নাই,. একটি

পূর্ণশশী ২৭

ভাবের সহিত আর একটি ভাব মেলে না। রাঁজ রাজেন্দ্রকুমীর শশীন্দ্রশেখরের ভগ্মীর কি এমনি গায়িকা সব £ বতসে গুর্ণশশি ! ভুমি শুন, এই বদ্ধ ক্রাঙ্মণ তোমারই অন্গগত। পাত্রকা বিশ্বাস রাখিতে জানে না, গুরুদেবের আদেশ আমি ইহাকে ভাড়াইয়। দিব 1 সরাসর আমি তোমারে কাশ্মীরে লইয়া যাইব 1 যদি কপালে থাকে, তুঘি রাজপৃত্তরের প্রণয়িনী হইবে পাটনার শিবিরে অব- মালিনী হইবার নিমিভ, আমি তোমারে এখানে আনি নাই |

এক জন সহচরী, জোড় হাতে কছিল, ঠাকুর ! আপনি ক্ষান্ত হউন |

পত্রিকা একটু একটু হাঁসিয়। কহিলেন, এণয়ের ষে সুখ, আর. বিচ্ছেদের যে দুঃখ, অভাগা পূরুষ, আর অভাগিনী রমণীরাই তাহা জানে আপনার ভুলা সাধু পূরুষেরা, সে সুখ দুঃখের অংশভা মী হইতে পারেন না।

তপস্বী নিত্যকামী বসল দেশের টোলের পণ্ডিভীভিমা নী ভট্টাচার্যাদিগের ন্যায় কোপনস্বভাব / তিনি ক্রোধে থরহরি কম্প- মান হইয়া কহিলেন, দূর হতভাগা মাগী, তুই দূর হ! তুই কাশ্মী- রের রাজাদের এক জন দাসী, তুই আমার উপর টেক্কা দিয়া যাবি, আমর কথার উপর কথ। পাড়িবি, আমি পবিত্র আশ্রমের আশ্রঙী, চুপ করিয়া থ)কিব কখনই হইবে না। আদিরসে আমি পরম পণ্ডিত, কি কৌশলে জ্রীলোকের মন ভুলাইতে হয়, গুরুদেবের রুপান্ন তাহা আমি বিলক্ষণ জানি। গুর্ণশশি ! তুমি বাছা একটু অন্তর হও, আমি মনের কথা প%;শ বত্সরের পর ,আজ খুলিয়। বলে।

গুর্ণশ শী একটু হাসিয়া সরিয়া গেলেন, ব্রহ্মচারী গান ধরিলেন।

হিরা ( নিত্যকামীর গীত ।)

পপী ল্‌-_জৎ |

প্রেমের পুতলি রাধা নাচিতেছে বিপিনে। নাচিতেছে, খেলিতেছে, হাসিতেছে, পুলিনে শ্যাম সোহাগী কমলিনী, হেরে আমায় নয়ানে। মুচকে হেসে, সরে গেল বপন ঢেকে বয়ানে দেখবো তারে দেখবো! আবার, ইচ্ছা করে মননে। রং বিলাসী, গয়লাদাসী, মোজ্বে আমার চরণে স্থখবিলাদী, পুর্ণশশী, নিদ্রা ঘাঁও মা শর়নে

দেখি আমি ব্রজবাসী, প্রেম বিলাসী নয়নে

যা থাকে কপালে জাঁজি, ফলিবে শুভ দিনে প্রেমের নিকুঞ্জে আজি, বাজিবে মৌহন বীণে

পাত্রক কহিলেন, গেঁ!সাই ঠারুর ! দিব) গীত হইয়াছে আি যদি পুর্ণশম্পীর দাসী হইয়া কখনে। নীলগিরিতে যাই, তাহা হইজে আর ফিরিয়া আসিব না, আপনার চরণতলে বসিয়া গান বাজন শিক্ষা করিব। আপনি আমার গুরু হইবেন

নিত্যাকামী হ্িভি করিয়া হাসিয়। কহিলেন, তুমি আমার চরণ তলে বসিলে আমি সশরীরে স্বর্ণে যাইব | আমার বিবাহ হয় নাই

মনের হাদি মনে গোপন করিয়া পাত্রকা ক'হলেন, ঝলিছে সাহস হয় না, আপনি যদি কৃপা করিয়া দাসীকে গ্রহণ করেন তছব চরিতার্থ হয়

ব্রঙ্ষগারী আর আহ্লাদে বসিতে পারিলেন না, যেন ফুিয়

পূর্ণ-শশী | ফুলিয় দড়াইয়] উঠিলেন.। গদ গদ স্বরে কহিলেন, হাঃ ছাঃ হাঃ! স্-_স্সস্গুন্দরি ! কিছু মনে করিও না, মন্দ কথা বলিয়খছি, সে পরিহাস ; কিছু মনে করিও না; আমি তোমণরে বড় ভাল বানি। আর একটী গীত শুনিবে 2

“শুনিব”_-নঅস্বরে নতমুখে এই কথাটী বলিয়া পত্রিকা মৃদু মৃদু হাসিতে লাগিলেন | নিত্যক।মী পুনরায় গীত ধরিলেন আড়খেম্টা। (মৃছ নুতোর সঙ্গে ) হ্যাদে বাহোয়। কি মজাঁর কথা, শুন্লে হানি পায়, রাজার মেয়ে দাঁী হলো, দাসীর তায় দেখতে চায় নাইব। হলো রাজার মেয়ে, তবুও ভাল রাণীর চেয়ে, মেয়ের পানে চেয়ে চেয়ে, পথের লোকের চোক টাটায়॥ বনকফল ঘর ছিল ভাল, বাঁজভোগে তার কাঁজ কি বলো, কোথায় আধার কোথায় আলো, রাজার ছেলে লোকহাসায় আমি নবীন ব্রহ্মচারী, লোভ কি সামলাতে পারি, দেখ বে! আজ হাঁরি কি পারি, লোভেই লোভীর কুলমজায় !! পাঠক মহাশয়! গীতের তাৰ কিছু বুঝিলেন পত্রিক। বুঝিয়াচছন | উহার মুখখানি গম্তীর হইয়াছে, যেনকি ভাবিতে- ছেন। যদি ভাব বুঝিয়।ছেন, তবে ভাবনা কেন £--আর কি কিছু ভাবিতেছেন ৫হতেও পারে 1 কিন্ত সে কথা এখন জিজ্ঞ।স কারতে নাই; জিজ্ঞাসা করিলে উত্তরও আনিবে না 1--পত্রিক! অতি লক্জাবতী নিতাকামীর গীত শুনিয়। লোকের হাঁসি পায়, পত্রিকা হাসি-

৩০ পুর্ণশশী লেন না কেন রহস্য শ্রাবণ করিয়া চিন্তার উদয়ই বা কেন £ এছুটা

প্রম্মেরও এখন উত্তর নাই। সকলি এখন ভবিষাতের তমোময় বিবরে

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

কোথা এলেম £

“আমরা যাঁধ গো সবে করিতে শ্যাম দরশন | হেরিয়া হইবে মনৌবাঞ্চল পুরণ ॥” | নানা আলাপে, নানা গঞ্পে কিছু দিন অতীত হইয়া গেল পত্রিকা কোনো দিন সঙ্গীত করেন, কৌনো দিন অতি মনোরম উপাখ্াান কীর্ভন করেন, কোনো দিন বা এক একটী স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। নিত্যক'মী প্রথম প্রথম পরিহাস করিয়। পত্রিকার সকল কথায় ছল ধরিতেন, এখন সে ভাব নাই |--অন্থরাগ জন্মি- যাছে। হতক্ষণ পত্রিকা কথা কন, প্রণয়ী তপস্থী ততক্ষণ এক দৃষ্টিতে ভার মুখ পানে চাহিয়া থাকেন কাঁণের কুগুল ছুটী ছুলিতেছে, অলকাগুচ্ছ কাঁপিতেছে, চক্ষের পলক পড়িতেছে, এই গুলি দেখেন পত্রিকা মনে মনে হাসেন, আর এক একবার অপাঙ্গে দর্শন করেন প্রতি দিন সন্ধ্যার পর এই ভাবটা পরম স্ন্দর দেখায় বসন্তকাল আগত ।-_পাটন'য় আর অবস্থ।ন করিতে পত্রিকার মন চাহিল না। পুর্ণশশীকে কহিলেন, প্রিয়সথি ! রাজপুভ্ সংবাদ দিবেন বলিয়াছিলেন, মিথ্যা হইল,তীাহার নিকট লোক পাঠানো

পূর্ণশশী | ৩৯

হইয়শছে, সে লোকও ফিরিল না ;--_-আমর1 যাইতেছি, এই ভাবিয়। রাজকুমার হয় নিশ্চিন্ত রহিয়াছেন। আমাদের আর এখানে বিলম্ব করা উচিত হয় না। গ্রয়াগে থাঁকিবেন কথা ছিল, চল আমরা প্রয়াগেই যাই, সেখানে দেখিতে না পাই, সরাসর রজধানী চলিয়া যাইব

পুর্ণশশী সম্মত হইলেন, নত্কামীও সায় দিলেন, পানা হইতে শিবির উঠিয়া এলাভীবাদে চলিল | কুমারী আজীবন কখনো! নৌকা আরোহণ করেন নাই, নৌকাক্স যাইতে অভিলাষ জানাইলেন নিত্যাকাধী আর পত্রিকা সে বাসনায় বাঁধা দিলেন না, নৌকীতেই যাত্রা করা স্থির হইল | পটাবাস লইয়া অন্চরের] স্থলপথে চলিয়] গেল, প্রয়াগের ঘাটে শিবিকা লইয়া প্রতীক্ষা করিবে, সঙ্কেত থাকিল,--প্রর্ণশশী জলপথে চলিলেন। তরণী মধোও পত্রিকার উপ- ন্যাস আর নিত্াকামীর রহস্য সম পরিমাণে চলিতে লাগল আমি যদি নাটক লিখিতে জানিত।মঃ তীহা হইলে এই স্রসজ্ঞ নিত্যকামী আমার হস্তে এই খতুতে জীবন্ত বিদূবকের আড় করিয়া গশংসা লাঁভ করিতেন ভাগ্াদোষে আমি স্বয়ং সে রসে বঞ্চিভ,-- নাটকের আস্বাদন বোধের ক্ষমতা আমার নই |

কত দেশ, কত নগর, কত স্থান আর নদী প্রকৃতির শোভা দেখিতে দেখিতে তরুণ আরোহীর মাঘ মাসের শেষে এলাহাবাদে পৌছিলেন। সে স্বীনের শোভা আরো রমণীয়। নৌকা যখন প্রয়াগের গঙ্গীষয়ুনা সঙ্গম ঘাটে উভ্ভরিলঃ তখন গৌধুলি 1--শিবিকা বাহকেরা আসিয়া পৌছ্য়ীছে কি না, দেখিবার নিমিত্ত একজন অন্কচর তীরে উঠিল এই অবসরে স্ৃভাবদর্শন-পিপানী গুর্ণশশী ধীরে ধীরে ছত্রীর খড় খড়ী খুলয়। সদ্ধাকালের জগচ্ছরি দর্শন

০২ . পুর্ণশশী | করিতে লাগিলেন গগনে পুর্ণকলা চন্দ্রমা অঞ্পে অল্পে বদন বিকাঁস করিয়া মৃছু মৃছ্ু হাসিতেছেন, তারানহ তারানাথের এতিবিস্ব জলে পড়িয়ছে, বেধ হইন্তেছে, জলতলে যেন একটী গ্রগন ভ্বলিতেছে, গঙ্গাযয়ুনা আহ্নাদে হ।!সিতেছেন,-সমস্ত গ্রক্কৃতিই এখন প্রয়াগধামে গ্রফুলযুখী ।--গুর্ণশশী এই শোভা দেখিলেন ;-_আকাঁশে পুর্ণ- শশশী,-_-ভাগীরথী অক্কে পুর্ণশশ্শী, আর প্রকৃতি দণে গুর্ণশশী দর্শন করিয়! চারুশীলা পুর্ণশশীর প্রেমাঙ্ক,রিত পবিত্র হৃদয় পরম পুলকে পরিপুর্ণ হইল /-সহ্দয়! বালিকার সরল হৃদয় পুর্ণানন্দে হাসিল হরিণায়ত সজল নেত্রপুটে সেই আনন্দ ক্রীড়া করিতে লাগিল | কিন্ত সে ভাৰ অধিকক্ষণ থাকিল না |--নীলশিরি মনে পড়িল” তপো- বন মনে পড়িল»--খ্রীবাভঙ্গী করিয়া পত্রিকীর মুখের দিকে একবার চাহিলেন,_-একবার নিত্যকণমীর ম্মশ্রুল বদন নিরীক্ষণ করিলেন মুখখানি বিষ হইল, ছুটী পদ্মচক্ষু দিয়া ছুই বিন্দু অশ্রু নৌকায় পড়িল | নদীর আ্রোতের দিকে একবার সজল নেত্রপাত করিলেন, আকাশের দিকে একবার শশীরুখখানি তুলিলেন,--আবার সেই মুখে অপুর্ব হাসি আদিল | মৃদু হাসিয়া মাথা ছেট করিলেন 1-- এই ভাবান্তর দেখিয়। পত্রিকা বুঝিতে পারিলেন, লজ্জাশীলা কি ভাঁবিতেছেন | জিজ্ঞাসা করিলেন, গুর্ণ ! অকস্মাৎ মনে কি কিছু উদয় হইয়াছে 2 ্‌

«কৈ, না, কিছুই নয়” এই পর্য্যন্ত বলিয়া লঙ্জাশীলা যেন আরো কিছু বলিবেন মনে করিতেছিলেন, এমন সময় হঠাঁৎ গঙ্গার সিকতাময় পুলিনে ভীহার দৃষ্টি পড়িল দেখিলেন, একটী সুন্দরী কুলবালা একখানি মাচীর বাঁসনে একটী মৃয় প্রদীপ জ্বালিয়া জলে ভানাইয়া দিল, প্রদীপ অপ্প অস্প বাতাসে ভাঁসিয়া চলিল।

পূর্ণ শশী ৩৩

কন্যাী তীরে দঁড়াইয়। স্থির দৃষ্টে সেই দিকে চাছিয়া থাঁকিল। গুরণশশী কিছু বুঝিতে পারিলেন না, পত্রিকাকে দেখাইয়া কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন পত্রিকা কহিলেন, দেখিতেছ, একটী, ক্ষিন্ত আর অর্থদণ্ড এখানে থাকিলে দেখিবে, শত শত রুলকন্যা রূপে প্রদীপ ভাসাইবে | যাহাদের পতিপুভ্র এভৃতি আত্মীয়েরা নদীপথে ৰ| সমুদ্রপথে দূরদেশে গিয়াছে, তাহারা গ্রদীপ ভাসা ইন্না শুভা- শুভ পরীক্ষা করে। যদি প্রদীপ ভুবিয়] যায়, কিন্বা তৈল থাকিতে নিবিয়। যায়, তবে অগুভ, আর যদি জ্বলিতে জ্বলিতে দৃষ্টিপথের অন্তরে ভাসিয়] চলে, তাহা হইলে শুভ লক্ষণ | এক এক দিন বন্ধ্যা কালে এই গঙ্গীযমুনা যেন নক্ষত্রনদী রূপ ধারণ করেন।

পুর্ণ শশীর কৌতুহল আরো রদ্ধি হইল, সেই হিন্ুবালার প্রদীপ কেমন করিয়া কতদুর তাঁসিয়] বায়, সা্গরাগ দর্শনে এক দৃষ্টে তাহা নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। দেখিতে দেখিতে প্রদীপটী নয়নপথ অতিক্রম করিয়া] গেল। যতক্ষণ নেত্রগোচর থাকিল, ততক্ষণ দেখি- লেন, সেই দীপ মিট্‌মিটু করিয়। জ্বলিতে জ্বলিতে গেল, নিবিল না ।-_দেখিয়া ভাবিলেন, কি আশ্চর্য? মন্তব্যের অস্থায়ী জীবন এই ক্ষুদ্র প্রদীপ অপেক্ষা যশস্বী নহে !-_একটী দীর্থ নিশ্বাস পরি- ত্যাগ করিলেন

শিৰিকা আসিয়াছে কি না, দেখিবার নিমিত্ব যে অন্গচর তীরে উঠিয়াছ্িল, সে ফিরিয়া আসিয়া কছিল, বাহকেরা কেহ আইসে নাই | পত্রিকা কহিলেন, না] আসাই সম্ভব নৌকায় আমাদের গহিরি হইয়াছে, কোন্‌ তারিখে ঠিক আসিয়] পৌছিব, সেটী তাঁহার! কিরূপে জানিবে ৪- তুমি ঠিকা পাল্কী ভাড়া করিয়া আনো ! কিন্কর সেই আদেশ পালন করিল

৩৪ পুর্ণ-শশী

শিবিকা আয়োছণ করিয়া যাত্রীর! ক্রমে ক্রমে শিবির অভিমুখে গমন করিলেন | একটী মনোহর উদ্যানে শিবির স্তাঁপন করা হইয়া- ছিল, দণ্ডেকের মধো তাহারা তথায় পৌছিলেন 1! রাত্রি হইয়াছিল, তথাচ চক্দ্রালেখকে সে উদ্যানের শোভা অপ্রকাশ ছিল না। চারি দিকে উচ্চ উচ্চ তরু, শাখাপল্লব বিস্তার করিয়া! রহিয়াছে, মধ্যস্থল অনাবত, নবনব তৃণরাজীতে সুশোভিত, সেই সমতল ক্ষেত্রোপরি রাজক্ুমারের আজ্ঞাবহ কিন্কবরেরা পটাবাস স্থাপন করিয়াছে চারি- পারে লানাজাতি পুজ্পবন, মাঝে মাঝে লতীকুঞ্জ, বাসন্তী মৃদ্ধু বায়ু- ছিলোলে নবদলপূর্ণ পাদপেরা অপ্প অল্প সঞ্চালিত হুইতেছিল, কৌতুকী পবনদেব ক্ষন ্ষুত্র পৃষ্পরক্ষে নৃত্য করিয়া সায়ং প্রস্ফুটিত কুক্মমদলের সুগন্ধ হরণ করিতেছিলেন, বিমল পরিমলে চতুর্দিক গ্রমোৌদিত। বায়ু সুখস্পর্শ, পুষ্পগন্ধ ভৃপ্তিকর, আর উপবনের পুজ্পময়ী শোভা পরম রমধুীয় কোনো ফুল শ্বেত, কোনটী ঈষত- রক্তবর্ণ, কোনটী গোলাপী, কোনো কোনগী হরিৎ। পীত। ধুমল, এবং এক একটী বিবিধ বণে মিশ্রিত রঞ্রিত। বিশ্ববিধাতা কত কৌশল একত্র করিয়। কুপ্ঠশোতা সম্পাদন করিয়াছেন, তান্ছা কে বলিবে আমি পুর্ণশশীর সঙ্গে এই উদ্যানে আলিয়াছি, শোভা দর্শন করিয়। নয়ন মন প্রফুল হইতেছে | পত্রিকা, পুর্ণশশী, নিতাকামী, একে একে শিবিকা হইতে নামিয়া শিবির মধ্যে প্রবেশ করিতেছিলেন, প্রকৃতির শেৌঁভ1 দেখিয়া, আর স্ুন্ি্ধ মলয়ানিল স্পর্শ করিয়া, ক্ষণকাঁল দড়াইলেন পত্রিকা